মতিঝিলে রথযাত্রার পথেই লুকানো ছিল শক্তিশালী বোমা! ছাতার ভেতরে অভিনব ফাঁদ, উৎস খুঁজছে তদন্তকারীরা
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী বোমাটি ঘিরে তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ছাতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকটির বিভিন্ন উপাদান এখন ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে এটি কারা তৈরি করেছে, কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত নাশকতাকারী চক্র রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অতীতে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলোর সঙ্গে এই বোমার কোনো মিল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি বোমাটিতে সার্কিট, ব্যাটারি এবং বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল। এটি এমনভাবে ছাতার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল যে, কেউ কৌতূহলবশত ছাতাটি খুলতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা ছিল।
শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রা মতিঝিল এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ সন্দেহজনক বস্তুটি শনাক্ত করে। আতঙ্ক এড়াতে উপস্থিত জনতাকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের অজুহাত দেখিয়ে নিরাপদ পথে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সফলভাবে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বেআইনিভাবে বিস্ফোরক তৈরি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং পরিকল্পিত নাশকতার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এ ধরনের বিস্ফোরক তৈরি করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়; এর পেছনে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া বা বিস্ফোরিত বোমার ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটির রাসায়নিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফল এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্তের দিক নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

























