ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মজলুমদের হাতেই গুমের পথ সহজ করার আইন হচ্ছে’: মীর আহমাদ

নিজস্ব সংবাদ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত প্রস্তাবিত দুটি আইনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভুক্তভোগীদের হাত দিয়েই এমন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে মীর আহমাদ বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই উদ্যোগে গুমের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান সরকার নতুন যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে গুম-সংক্রান্ত কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার কথা বললেও প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবে কমিশন দুটিকে অনেকটাই দুর্বল করে ফেলবে।

মীর আহমাদের দাবি, নতুন আইনে কোনো ভুক্তভোগীর অভিযোগ পরবর্তী সময়ে আদালতে ভুল বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্তের কার্যকর সুযোগ না থাকলে জবাবদিহির ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর সদস্যদের কাছে এমন একটি বার্তা যেতে পারে যে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো কেউ নেই।

আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন ও নাবিলা ইদ্রিস, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, মীর আহমাদ বিন কাসেম নিজেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘মজলুমদের হাতেই গুমের পথ সহজ করার আইন হচ্ছে’: মীর আহমাদ

আপডেট সময় ০২:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত প্রস্তাবিত দুটি আইনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভুক্তভোগীদের হাত দিয়েই এমন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে মীর আহমাদ বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই উদ্যোগে গুমের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান সরকার নতুন যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে গুম-সংক্রান্ত কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইনমন্ত্রী আরও শক্তিশালী আইন করার কথা বললেও প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবে কমিশন দুটিকে অনেকটাই দুর্বল করে ফেলবে।

মীর আহমাদের দাবি, নতুন আইনে কোনো ভুক্তভোগীর অভিযোগ পরবর্তী সময়ে আদালতে ভুল বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্তের কার্যকর সুযোগ না থাকলে জবাবদিহির ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর সদস্যদের কাছে এমন একটি বার্তা যেতে পারে যে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো কেউ নেই।

আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সাবেক গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন ও নাবিলা ইদ্রিস, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, মীর আহমাদ বিন কাসেম নিজেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছিলেন।