ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তেই দেশজুড়ে বড় ঘাটতি, ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং

নিজস্ব সংবাদ :

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের চিত্র দেখা গেছে। রাত ৯টার হিসাবে দেশের ৯টি বিদ্যুৎ বিতরণ জোনে মোট চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১০৮ মেগাওয়াট, আর সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হয়েছে ৩ হাজার ৭ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জোনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চল। সেখানে ১ হাজার ৬০৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩০.৬ শতাংশ।

বরিশাল ও রংপুরেও বড় ঘাটতি

চাহিদার তুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বরিশাল জোনে। ৫৭৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৫২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ২৬.৩ শতাংশ ঘাটতি ছিল।

রংপুরে ১ হাজার ২৭২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা যায়, যা প্রায় ২৩.৩ শতাংশ। একই ধরনের পরিস্থিতি ছিল সিলেটেও; ৮২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, যা প্রায় ২৩.২ শতাংশ।

কুমিল্লা, রাজশাহী ও খুলনায়ও চাপ

কুমিল্লা জোনে ১ হাজার ৭৪৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৬৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। রাজশাহীতে ১ হাজার ৮৮৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৩৬১ মেগাওয়াট। খুলনায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তুলনামূলক কম অনুপাত

চট্টগ্রাম জোনে ১ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২০৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, যা প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ঢাকা জোনে চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট। সেখানে লোডশেডিং হয়েছে ৫৮৫ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৯.১ শতাংশ। অনুপাতের দিক থেকে এটি সবচেয়ে কম হলেও মোট পরিমাণের হিসাবে ঢাকাতেই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

সার্বিক চিত্র

জোনভিত্তিক তথ্য বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের দিক থেকে ঢাকা শীর্ষে থাকলেও চাহিদার তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চল। সামগ্রিক হিসাবে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৬.৬ শতাংশই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, যা চলমান গরম ও বাড়তি চাহিদার মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তেই দেশজুড়ে বড় ঘাটতি, ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং

আপডেট সময় ০৩:২১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের চিত্র দেখা গেছে। রাত ৯টার হিসাবে দেশের ৯টি বিদ্যুৎ বিতরণ জোনে মোট চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১০৮ মেগাওয়াট, আর সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হয়েছে ৩ হাজার ৭ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জোনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চল। সেখানে ১ হাজার ৬০৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩০.৬ শতাংশ।

বরিশাল ও রংপুরেও বড় ঘাটতি

চাহিদার তুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বরিশাল জোনে। ৫৭৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৫২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ২৬.৩ শতাংশ ঘাটতি ছিল।

রংপুরে ১ হাজার ২৭২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা যায়, যা প্রায় ২৩.৩ শতাংশ। একই ধরনের পরিস্থিতি ছিল সিলেটেও; ৮২৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, যা প্রায় ২৩.২ শতাংশ।

কুমিল্লা, রাজশাহী ও খুলনায়ও চাপ

কুমিল্লা জোনে ১ হাজার ৭৪৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৬৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। রাজশাহীতে ১ হাজার ৮৮৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৩৬১ মেগাওয়াট। খুলনায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তুলনামূলক কম অনুপাত

চট্টগ্রাম জোনে ১ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২০৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে, যা প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ঢাকা জোনে চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট। সেখানে লোডশেডিং হয়েছে ৫৮৫ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৯.১ শতাংশ। অনুপাতের দিক থেকে এটি সবচেয়ে কম হলেও মোট পরিমাণের হিসাবে ঢাকাতেই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

সার্বিক চিত্র

জোনভিত্তিক তথ্য বলছে, মোট লোডশেডিংয়ের দিক থেকে ঢাকা শীর্ষে থাকলেও চাহিদার তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চল। সামগ্রিক হিসাবে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৬.৬ শতাংশই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, যা চলমান গরম ও বাড়তি চাহিদার মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।