বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়তে পারে, কীভাবে সতর্ক থাকবেন
স্ট্রোক হঠাৎ করেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে দিতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনি রক্তনালি ছিঁড়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্তচাপের আকস্মিক ও বড় ধরনের ওঠানামা রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে কিছু পরিস্থিতিতে বাথরুমে থাকাকালীনও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা বেশি জরুরি।
বাথরুমে ঝুঁকি বাড়ার কারণ কী?
অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসলের সময় শরীরের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে পারে। আবার দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেও রক্তচাপের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলেও সাময়িকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত বাথরুমে যাওয়ার ক্ষেত্রেও শরীরে রক্তচাপের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তবে এসব কারণকে এককভাবে স্ট্রোকের কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সাধারণত যাদের স্ট্রোকের অন্যান্য ঝুঁকি আগে থেকেই রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পরিমিত ও সুষম খাবার এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, তারা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল এড়িয়ে চলতে পারেন। গোসলের সময় হঠাৎ মাথায় পানি না ঢেলে প্রথমে পা ও শরীরের নিচের অংশ ভেজানো এবং ধীরে ধীরে ওপরের দিকে পানি দেওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।
বাথরুমে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।
ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত হাঁটাহাঁটি না করে কিছুক্ষণ বিছানায় বা পাশে বসে থাকার পর ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে চলাফেরা করাও উপকারী হতে পারে।
স্ট্রোকের পর অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার মুখে পড়েন। তাই শুধু বাথরুম ব্যবহারের সময় নয়, সার্বিকভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।


























