পার পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা, পড়তে যাচ্ছে ফিফার শাস্তির মুখে
বিশ্বকাপের ফাইনালে মারামারির ঘটনার জেরে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
ফাইনালে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তদন্ত চালিয়েছে ফিফা। এরপর আর্জেন্টিনার তিন সদস্য- মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, ম্যাচ অফিসিয়াল ছাড়া প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় বা অন্য কারও বিরুদ্ধে আগ্রাসী আচরণ করলে প্রতিটি অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।
সে হিসেবে পারেদেসের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হলে তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ ৯ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। তবে অতীতের বিভিন্ন শৃঙ্খলাজনিত মামলার নজির বিবেচনায় ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, পাঁচ থেকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই হতে পারে সবচেয়ে সম্ভাব্য শাস্তি।
শুধু আর্জেন্টিনা নয়, শাস্তি পেতে পারে স্পেনও। ফিফা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পারেদেস, মোলিনা ও আয়ালার বিরুদ্ধে। স্পেনের গাভি, রদ্রি ও দানি ওলমোর সঙ্গে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে বলেছে, অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
এই তদন্ত কেবল কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও পৃথক শৃঙ্খলাভঙ্গের কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি। ২. ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন। ৩. নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা। ৪. খেলোয়াড় ও সমর্থকদের রাজনৈতিক বা অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন। ৫. গ্যালারি থেকে বিভিন্ন বস্তু মাঠে নিক্ষেপ।
এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে এএফএকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে তাদের ঘরের মাঠের কিছু ম্যাচ আংশিক বা পুরোপুরি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের নির্দেশও দিতে পারে ফিফা।
























