২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট মিশন, টাইগারদের প্রথম বহর উড়াল
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল নতুন এক অধ্যায়ের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দুই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ সামনে রেখে শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন দলের প্রথম বহরের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফরা।
প্রথম দফায় দেশ ছেড়েছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক, ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসানসহ আরও কয়েকজন ক্রিকেটার।
দলের সঙ্গে গেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ এবং সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা। বাকি ক্রিকেটাররা পৃথক ফ্লাইটে পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা আগেভাগেই সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সেখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা মূল সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূচি অনুযায়ী, প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।
ডারউইনের এই মাঠে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। ২০০৩ সালে একমাত্র সফরে ইনিংস ব্যবধানে হারের স্মৃতি রয়েছে টাইগারদের। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আর কোনো টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বর্তমান দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের জন্য ভেন্যুটি একেবারেই নতুন।
সফরের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ডারউইনের কন্ডিশন সম্পর্কে খুব বেশি সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের বিশ্লেষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছেন। তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের মাঠে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সম্মানের।
শান্ত বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের। গত ২৩ বছরে আমাদের সেখানে আরও বেশি টেস্ট খেলা উচিত ছিল। আমরা চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।”
এই সফরকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। কঠিন কন্ডিশনে নিজেদের মেলে ধরতে পারলে টাইগারদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনের একটি বড় সুযোগ।
























