নিউমার্কেটে ছাত্রদল–যুবদল সংঘর্ষ: আধিপত্যের দ্বন্দ্বে রক্তাক্ত ১৫, বহিষ্কার ১০ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কয়েকজনকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেনি।
যুবদলের পাঁচ নেতা বহিষ্কার
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, পেশিশক্তির প্রদর্শন, স্বেচ্ছাচারিতা এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আওতাধীন নিউমার্কেট ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—
- নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল
- যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব
- ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব শাহাদাত
- যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার
- যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন (চায়না সুমন)
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বহিষ্কার আরও ৫
একই ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কৃতরা হলেন—
- ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আহমেদ
- যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার
- যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার
- সদস্য সাগর খান
- সদস্য মির্জা গোলাম রায়হান
জুলহাস আহমেদকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আর অন্য চার নেতাকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
এদিকে নিউমার্কেট থানা যুবদলের আহ্বায়ক মিজান ব্যাপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংঘর্ষের পেছনে কী?
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট, ফুটপাত, পরিবহন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।























