ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরে ডিবির অভিযানে ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও যন্ত্রপাতি জব্দ গ্রেফতার ৩

নিজস্ব সংবাদ :

বিপ্লব তালুকদার, নাটোর জেলা প্রতিনিধি

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পার আটঘরিয়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং প্যাকেজিং সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায় শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাটোর সদর সার্কেল মো: মুন্না বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল পার আটঘরিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গোপনে অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনের তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পার আটঘরিয়া গ্রামের মো. খোকন মিয়া (২৮), মো:শরিফুল ইসলাম (২৮) এবং আওরাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো: তারিকুল ইসলাম (২৪)। তাদের সবাই নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেফতারকৃত খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসকে নিউট্রিশন এবং ‘অর্গানিক বায়ো কেয়ার সলিউশন নামে দুটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে এসব পণ্যের প্রচার ও বিক্রি করা হতো বলে পুলিশের দাবি।

অভিযান চলাকালে কারখানা থেকে ক্যাপসুল তৈরির মেশিন ট্যাবলেট উৎপাদন যন্ত্র প্যাকেজিং মেশিন, কমপ্রেসার, ল্যাপটপ ডেস্কটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কাঁচামাল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল এবং প্রস্তুতকৃত ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই কারখানায় ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধ কাঁচামাল এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতির আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নাটোর জেলা পুলিশ বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে কেউ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোরে ডিবির অভিযানে ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও যন্ত্রপাতি জব্দ গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় ০৪:২৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিপ্লব তালুকদার, নাটোর জেলা প্রতিনিধি

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পার আটঘরিয়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং প্যাকেজিং সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায় শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাটোর সদর সার্কেল মো: মুন্না বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল পার আটঘরিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গোপনে অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনের তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পার আটঘরিয়া গ্রামের মো. খোকন মিয়া (২৮), মো:শরিফুল ইসলাম (২৮) এবং আওরাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো: তারিকুল ইসলাম (২৪)। তাদের সবাই নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেফতারকৃত খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসকে নিউট্রিশন এবং ‘অর্গানিক বায়ো কেয়ার সলিউশন নামে দুটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে এসব পণ্যের প্রচার ও বিক্রি করা হতো বলে পুলিশের দাবি।

অভিযান চলাকালে কারখানা থেকে ক্যাপসুল তৈরির মেশিন ট্যাবলেট উৎপাদন যন্ত্র প্যাকেজিং মেশিন, কমপ্রেসার, ল্যাপটপ ডেস্কটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কাঁচামাল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল এবং প্রস্তুতকৃত ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই কারখানায় ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধ কাঁচামাল এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতির আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নাটোর জেলা পুলিশ বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে কেউ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।