ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুলকে জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন জিয়াউর রহমান: রিজভী

নিজস্ব সংবাদ :

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, সমাজের কোথায় অগ্রগতি হচ্ছে এবং কোথায় পিছিয়ে পড়ছে—তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারাই একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের বৈশিষ্ট্য। একজন রাজনীতিক যখন এই গণ্ডি অতিক্রম করে জাতীয় স্বার্থে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তখনই তিনি রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় পৌঁছান।

জিয়াউর রহমানকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সিগন্যাল বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েও তিনি শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। শিশুদের মানসিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতেন।

রিজভীর ভাষ্য, এ চিন্তা থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের অনুষ্ঠান চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের অনেক শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান।

কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত উঁচু মানের কবি হলেও শিশুতোষ সাহিত্য ও শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে নজরুলের অবদান স্বতন্ত্র। তাঁর বিভিন্ন কবিতা, গান ও শিশুতোষ রচনার মাধ্যমে তিনি সহজেই শিশুদের কল্পনা ও অনুভূতির জগতে পৌঁছে গেছেন।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য তরুণদের প্রচলিত বাধা ও সংকীর্ণতা অতিক্রম করে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণাও তাঁর সাহিত্য থেকে পাওয়া যায়।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী আরও বলেন, কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। নজরুলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় পূর্ণতা পেতে পারে না—এ বিষয়টি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন। তাই জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে তিনি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন।

বর্তমান সমাজে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শনের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন।

রিজভী বলেন, নজরুলের গান ও কবিতা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিকতা তৈরি করে। তাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নজরুলকে জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন জিয়াউর রহমান: রিজভী

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, সমাজের কোথায় অগ্রগতি হচ্ছে এবং কোথায় পিছিয়ে পড়ছে—তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারাই একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের বৈশিষ্ট্য। একজন রাজনীতিক যখন এই গণ্ডি অতিক্রম করে জাতীয় স্বার্থে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তখনই তিনি রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় পৌঁছান।

জিয়াউর রহমানকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সিগন্যাল বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েও তিনি শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। শিশুদের মানসিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতেন।

রিজভীর ভাষ্য, এ চিন্তা থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের অনুষ্ঠান চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের অনেক শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান।

কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত উঁচু মানের কবি হলেও শিশুতোষ সাহিত্য ও শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে নজরুলের অবদান স্বতন্ত্র। তাঁর বিভিন্ন কবিতা, গান ও শিশুতোষ রচনার মাধ্যমে তিনি সহজেই শিশুদের কল্পনা ও অনুভূতির জগতে পৌঁছে গেছেন।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য তরুণদের প্রচলিত বাধা ও সংকীর্ণতা অতিক্রম করে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণাও তাঁর সাহিত্য থেকে পাওয়া যায়।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী আরও বলেন, কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। নজরুলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় পূর্ণতা পেতে পারে না—এ বিষয়টি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন। তাই জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে তিনি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন।

বর্তমান সমাজে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শনের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন।

রিজভী বলেন, নজরুলের গান ও কবিতা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিকতা তৈরি করে। তাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিশু-কিশোরদের মধ্যে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করা জরুরি।