দাখিল মাদ্রাসা থেকে রাশিয়ায় এমবিবিএস—মুন্সিগঞ্জের শফিকুল ইসলামের অনন্য সাফল্য
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার এক তরুণের সাফল্যের গল্প এখন অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। খাসকান্দি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী মো. শফিকুল ইসলাম রাশিয়া থেকে সফলভাবে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাদ্রাসাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম শিক্ষার্থী, যিনি চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এই কৃতিত্বে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।
শফিকুল ইসলামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চরকুন্দুলিয়া গ্রামে। তিনি মো. কেরামত আলীর সন্তান। শিক্ষাজীবনের শুরু হয় খাসকান্দি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন লালন করতেন শফিকুল। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উচ্চমাধ্যমিকের পর পাড়ি জমান রাশিয়ায়। সেখানে ন্যাশনাল রিসার্চ মর্দোভিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
খাসকান্দি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আমির হোসাইন বলেন, শফিকুল ইসলামের এই সাফল্য শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সাফল্যের পেছনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, মা-বাবার ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং স্বজনদের ভালোবাসা ও দোয়া সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তিনি জানান, একজন মানবিক ও রোগীবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। পাশাপাশি নিউরোসার্জারিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাই তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ডা. শফিকুল ইসলাম তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা—ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।


























