ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত অন্তত ৬

নিজস্ব সংবাদ :

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার থাইল্যান্ডের নন্থাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘দেবসিরিন নন্থাবুরি’ স্কুলে এই ঘটনা ঘটে । এ ছাড়া এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

গুলির ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে, স্কুলের বাইরে অপেক্ষমাণ শিক্ষক ও কর্মীদের অনেককেই স্পষ্টভাবে শোকাহত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, মানুষ স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা স্কুলের ভেতরে কাজ করছেন। পরবর্তীতে স্কুল ভবনটি সুরক্ষিত করা হলেও কর্মকর্তারা হামলাকারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানাননি।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি থাই রাজপরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘দেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নেটওয়ার্কের অন্যতম একটি অংশ। এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, খ্যাতনামা পণ্ডিত এবং লেখকেরা রয়েছেন।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত অন্তত ৬

আপডেট সময় ০৬:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার থাইল্যান্ডের নন্থাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘দেবসিরিন নন্থাবুরি’ স্কুলে এই ঘটনা ঘটে । এ ছাড়া এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

গুলির ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে, স্কুলের বাইরে অপেক্ষমাণ শিক্ষক ও কর্মীদের অনেককেই স্পষ্টভাবে শোকাহত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, মানুষ স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা স্কুলের ভেতরে কাজ করছেন। পরবর্তীতে স্কুল ভবনটি সুরক্ষিত করা হলেও কর্মকর্তারা হামলাকারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানাননি।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি থাই রাজপরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘দেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নেটওয়ার্কের অন্যতম একটি অংশ। এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, খ্যাতনামা পণ্ডিত এবং লেখকেরা রয়েছেন।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।