ইরানের ট্যাংকারে হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ২০ ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই চলছে তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা। তার জেরে এবার কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলের ট্যাংকারগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে এ হুমকি দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি নৌবাহিনী বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে নোঙর করা তেলের ট্যাংকারগুলো প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের পক্ষ থেকে দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল এমন অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালানো হয়।
এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এর মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাময়িকভাবে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের পক্ষ থেকে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজে দুইবার হামলার চেষ্টা করা হয়।
তবে জাহাজটি উভয় হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলেও জানানো হয়।
এরপর ওমান উপসাগরে থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়া নামের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
হামলার আগে এসব জাহাজের কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। হামলার পর ট্যাংকারগুলো অচল হয়ে যায়।

























