ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির পাঁচ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় সিনেট থেকে ওয়াকআউট ডাকসু প্রতিনিধিদের

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর পাঁচজন নির্বাচিত প্রতিনিধি।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে সিনেটের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশন ত্যাগের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে তাতে সাড়া না দিয়ে তারা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

ওয়াকআউটে অংশ নেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ডাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিন্ডিকেট শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিনেট সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচ্যসূচিতে তোলা হয়। এ সময় বিভিন্ন সিনেট সদস্য তাদের মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন। ডাকসুর প্রতিনিধিরা অবশ্য নাম পরিবর্তনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি আবারও সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে সিনেট অধিবেশন বর্জন করেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা।

পরে এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর নেতারা দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৮০০টি সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে এবং ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে থাকা আবাসিক হলের নাম বদলানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর ও দাবির ভিত্তিতে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে সম্মতি দেওয়ার পর সিন্ডিকেটও সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে সিনেটে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সিনেটে এসে সেটি আবারও সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোয় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ডাকসুর নেতাদের দাবি, বর্তমান নাম বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের হয়রানি ও অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিনেট থেকে তাদের ওয়াকআউট কোনো ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পক্ষে একটি নৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাবির পাঁচ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকায় সিনেট থেকে ওয়াকআউট ডাকসু প্রতিনিধিদের

আপডেট সময় ০৪:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর পাঁচজন নির্বাচিত প্রতিনিধি।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে সিনেটের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশন ত্যাগের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে তাতে সাড়া না দিয়ে তারা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

ওয়াকআউটে অংশ নেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ডাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিন্ডিকেট শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিনেট সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচ্যসূচিতে তোলা হয়। এ সময় বিভিন্ন সিনেট সদস্য তাদের মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন। ডাকসুর প্রতিনিধিরা অবশ্য নাম পরিবর্তনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি আবারও সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে সিনেট অধিবেশন বর্জন করেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা।

পরে এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর নেতারা দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৮০০টি সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে এবং ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে থাকা আবাসিক হলের নাম বদলানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর ও দাবির ভিত্তিতে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে সম্মতি দেওয়ার পর সিন্ডিকেটও সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে সিনেটে পাঠিয়েছিল। কিন্তু সিনেটে এসে সেটি আবারও সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোয় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ডাকসুর নেতাদের দাবি, বর্তমান নাম বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের হয়রানি ও অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিনেট থেকে তাদের ওয়াকআউট কোনো ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পক্ষে একটি নৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।