ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ: তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, চারজনকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

নিজস্ব সংবাদ :

অধ্যাপক সাদেকা হালিম (ফাইল ছবি)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। অপর দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাচ থেকে আসা অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চার শিক্ষককে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

সিন্ডিকেট সভায় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কার্যক্রম, প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগেও ব্যবস্থা

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যজনিত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ও গবেষণা খাতে তদন্ত কমিটি

সিন্ডিকেট সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং সব অনুষদের ডিনদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে।

আরও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত

অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) একেএম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত

সভায় প্রশাসনিক ভবনের পাশের মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিতব্য এ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাবিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ: তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, চারজনকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

যেসব শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। অপর দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাচ থেকে আসা অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চার শিক্ষককে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

সিন্ডিকেট সভায় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কার্যক্রম, প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগেও ব্যবস্থা

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যজনিত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ও গবেষণা খাতে তদন্ত কমিটি

সিন্ডিকেট সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এবং সব অনুষদের ডিনদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে।

আরও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত

অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) একেএম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত

সভায় প্রশাসনিক ভবনের পাশের মলচত্বরে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিতব্য এ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।