ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা: সীমান্ত হত্যা ও ফেলানীর স্মৃতি সরানোর অভিযোগে নাহিদের ক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি-সংবলিত কিছু উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস পাবে।

“ইতিহাস বাদ দেওয়ার অধিকার কারও নেই”

নাহিদ ইসলামের দাবি, জাদুঘরে আগে সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা ছিল। পাশাপাশি আলোচিত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্যও প্রদর্শিত হতো। সাম্প্রতিক পরিদর্শনে তিনি সেগুলো আর দেখতে পাননি।

তার প্রশ্ন, “যদি এগুলো দেশের ইতিহাসের অংশ হয়, তাহলে সেগুলো প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে ফেলা হবে কেন?”

তিনি মনে করেন, গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈদেশিক প্রভাবও জড়িত ছিল। তাই সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড, বিডিআর ট্র্যাজেডি ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাগুলোও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন।


গণভবন থেকে জাদুঘর: নির্যাতন থেকে প্রতিরোধের স্মৃতি

গণভবনকে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হতো।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা গণভবনে প্রবেশের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক যুগের অবসানের প্রতীকী মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই স্থানটিকে নির্যাতন, প্রতিরোধ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


“জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু কয়েকটি মুখের নয়”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান উপস্থাপনায় আন্দোলনের বিস্তৃত চরিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসাশিক্ষার্থী, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন এবং অসংখ্য শহিদের অবদান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা দরকার।

তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বহু শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি জাতীয় আন্দোলন। তাই এর উপস্থাপনাও হতে হবে বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।


দলীয় বয়ানের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

জাদুঘরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়বস্তু বাড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ইতিহাস তুলে ধরার নামে যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য প্রাধান্য পায়, তাহলে জাদুঘরের জাতীয় চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপস্থাপনায় বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস যেন একই পরিণতির মুখে না পড়ে।


আবু সাঈদের ছবি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন

জাদুঘরের একটি গ্যালারিতে শহিদ আবু সাঈদের ছবি না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, আবু সাঈদকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে এবং তার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে নাহিদের মতে, শুধু একজন নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের স্মৃতিই আরও মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।


জনবল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমানে প্রায় ১৫–২০ জন জনবল ও কিছু স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।

তার মতে, বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে অন্তত ২০০ জন দক্ষ জনবল প্রয়োজন। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে নিরাপত্তা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরকে সাধারণ সরকারি দপ্তরের মতো পরিচালনা করা উচিত নয়; বরং এটিকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর আওতায় এনে গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।


আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব

দর্শনার্থীদের জন্য প্রশিক্ষিত ব্যাখ্যাকারী (এক্সপ্লেইনার), অডিও গাইড এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য উপস্থাপনার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

বিদেশের বিভিন্ন জাদুঘরের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রদর্শনী শুধু বস্তু দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দর্শনার্থীদের ইতিহাসের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পর্ক ভালো রাখার নামে কিছু বিষয়ে আপসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে অতীতের স্বৈরাচারী শক্তিগুলো বিদেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।


জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্মৃতিসৌধ নয়; এটি বৃহত্তর জনগণের আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও গণঅভ্যুত্থানের দলিল।

তার আহ্বান, জাদুঘরকে এমন একটি জাতীয় ইতিহাসকেন্দ্রে পরিণত করা হোক, যেখানে রাজনৈতিক বয়ানের পরিবর্তে সত্য, বহুমাত্রিক অংশগ্রহণ এবং প্রকৃত ইতিহাসচর্চা অগ্রাধিকার পাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা: সীমান্ত হত্যা ও ফেলানীর স্মৃতি সরানোর অভিযোগে নাহিদের ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৩:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি-সংবলিত কিছু উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস পাবে।

“ইতিহাস বাদ দেওয়ার অধিকার কারও নেই”

নাহিদ ইসলামের দাবি, জাদুঘরে আগে সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা ছিল। পাশাপাশি আলোচিত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মরণে একটি ভাস্কর্যও প্রদর্শিত হতো। সাম্প্রতিক পরিদর্শনে তিনি সেগুলো আর দেখতে পাননি।

তার প্রশ্ন, “যদি এগুলো দেশের ইতিহাসের অংশ হয়, তাহলে সেগুলো প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে ফেলা হবে কেন?”

তিনি মনে করেন, গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈদেশিক প্রভাবও জড়িত ছিল। তাই সীমান্ত হত্যা, ফেলানী হত্যাকাণ্ড, বিডিআর ট্র্যাজেডি ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাগুলোও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন।


গণভবন থেকে জাদুঘর: নির্যাতন থেকে প্রতিরোধের স্মৃতি

গণভবনকে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হতো।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা গণভবনে প্রবেশের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক যুগের অবসানের প্রতীকী মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই স্থানটিকে নির্যাতন, প্রতিরোধ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


“জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু কয়েকটি মুখের নয়”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বর্তমান উপস্থাপনায় আন্দোলনের বিস্তৃত চরিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মাদরাসাশিক্ষার্থী, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন এবং অসংখ্য শহিদের অবদান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা দরকার।

তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বহু শ্রেণি-পেশা, অঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি জাতীয় আন্দোলন। তাই এর উপস্থাপনাও হতে হবে বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।


দলীয় বয়ানের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

জাদুঘরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়বস্তু বাড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ইতিহাস তুলে ধরার নামে যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য প্রাধান্য পায়, তাহলে জাদুঘরের জাতীয় চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপস্থাপনায় বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস যেন একই পরিণতির মুখে না পড়ে।


আবু সাঈদের ছবি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন

জাদুঘরের একটি গ্যালারিতে শহিদ আবু সাঈদের ছবি না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, আবু সাঈদকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে এবং তার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে নাহিদের মতে, শুধু একজন নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের স্মৃতিই আরও মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।


জনবল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমানে প্রায় ১৫–২০ জন জনবল ও কিছু স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।

তার মতে, বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে অন্তত ২০০ জন দক্ষ জনবল প্রয়োজন। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে নিরাপত্তা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরকে সাধারণ সরকারি দপ্তরের মতো পরিচালনা করা উচিত নয়; বরং এটিকে স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর আওতায় এনে গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।


আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব

দর্শনার্থীদের জন্য প্রশিক্ষিত ব্যাখ্যাকারী (এক্সপ্লেইনার), অডিও গাইড এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য উপস্থাপনার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

বিদেশের বিভিন্ন জাদুঘরের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রদর্শনী শুধু বস্তু দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দর্শনার্থীদের ইতিহাসের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পর্ক ভালো রাখার নামে কিছু বিষয়ে আপসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার ফলে অতীতের স্বৈরাচারী শক্তিগুলো বিদেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।


জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্মৃতিসৌধ নয়; এটি বৃহত্তর জনগণের আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ ও গণঅভ্যুত্থানের দলিল।

তার আহ্বান, জাদুঘরকে এমন একটি জাতীয় ইতিহাসকেন্দ্রে পরিণত করা হোক, যেখানে রাজনৈতিক বয়ানের পরিবর্তে সত্য, বহুমাত্রিক অংশগ্রহণ এবং প্রকৃত ইতিহাসচর্চা অগ্রাধিকার পাবে।