জুলাইয়ের সেই কালো অধ্যায়: স্রেব্রেনিৎসা, যেখানে মানবতা হারিয়েছিল ৮ হাজারেরও বেশি প্রাণ
১৯৯৫ সালের জুলাই—ইউরোপের ইতিহাসে এমন এক শোকাবহ সময়, যার ক্ষত আজও মুছে যায়নি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ছোট্ট শহর স্রেব্রেনিৎসা (Srebrenica) ছিল জাতিসংঘ ঘোষিত একটি “নিরাপদ এলাকা”। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার বসনিয়াক (বসনিয়ান মুসলিম) পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার সেই আশ্রয়ই পরিণত হয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে।
১৯৯৫ সালের জুলাইয়ের কয়েকটি দিনে নারী ও শিশুদের পুরুষদের থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। এরপর হাজার হাজার কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন স্থানে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অধিকাংশকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যমতে, ৮ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র বসনিয়াক নিহত হন শুধুমাত্র তাদের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে। একই সময়ে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা হিসেবে স্রেব্রেনিৎসার এই ট্র্যাজেডি ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর পরও বিভিন্ন গণকবর থেকে নিখোঁজদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে স্বজনরা অন্তত প্রিয় মানুষদের সম্মানজনকভাবে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
স্রেব্রেনিৎসা কেবল একটি শহরের নাম নয়; এটি ঘৃণা, বিদ্বেষ ও উগ্র জাতিগত সহিংসতার ভয়াবহ পরিণতির প্রতীক। হাজারো পরিবারের কান্না, অসংখ্য অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং মানবতার প্রতি এক কঠিন সতর্কবার্তা আজও বহন করে এই নাম।
ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত শুধু মৃত্যু, ধ্বংস এবং অনন্ত শোকই বয়ে আনে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাই শান্তি, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার, যেন পৃথিবীর কোথাও আর কখনও এমন কোনো কালো জুলাই ফিরে না আসে।
সূত্র :Zahir Islam ফেইসবুক


























