ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরমে হজমের সমস্যা বাড়ে কেন? আয়ুর্বেদের ব্যাখ্যা

নিজস্ব সংবাদ :

প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে হজমতন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে পাকস্থলীতে অম্লতার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই এই সময় গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা অনেকের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

আয়ুর্বেদের ভাষায়, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালকে ‘পিত্ত’ বা অগ্নি উপাদানের ঋতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় শরীরে পিত্তের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় হজমের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় এবং অম্বল, গ্যাস কিংবা হজমের নানা জটিলতা দেখা দেয়।

অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘ সময় ঘাম হওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ—এসব কারণ একসঙ্গে হজমশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে খাবার ঠিকভাবে হজম না হয়ে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে শরীরের হজমক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। তাই এ সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখা জরুরি।

আয়ুর্বেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আম’। তাদের মতে, খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে শরীরে ‘আম’ নামে এক ধরনের অপাচ্য ও বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এটি শরীরে জমে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ হজম বজায় রাখা শুধু পেটের জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গরমে হজমের সমস্যা বাড়ে কেন? আয়ুর্বেদের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় ০৫:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে হজমতন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে পাকস্থলীতে অম্লতার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই এই সময় গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা অনেকের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

আয়ুর্বেদের ভাষায়, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালকে ‘পিত্ত’ বা অগ্নি উপাদানের ঋতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় শরীরে পিত্তের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় হজমের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় এবং অম্বল, গ্যাস কিংবা হজমের নানা জটিলতা দেখা দেয়।

অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘ সময় ঘাম হওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ—এসব কারণ একসঙ্গে হজমশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে খাবার ঠিকভাবে হজম না হয়ে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে শরীরের হজমক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। তাই এ সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখা জরুরি।

আয়ুর্বেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘আম’। তাদের মতে, খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে শরীরে ‘আম’ নামে এক ধরনের অপাচ্য ও বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে এটি শরীরে জমে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ হজম বজায় রাখা শুধু পেটের জন্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।