ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ই-গভর্নেন্স ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ই-গভর্নেন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের প্রযুক্তিনির্ভর দেশ এস্তোনিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে দেশটি।

এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে (ফরেন অফিস কনসালটেশন) এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ।

ডিজিটাল সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব

বৈঠকে উভয় দেশ রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন এবং আধুনিক ই-গভর্নেন্স কাঠামো গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এস্তোনিয়া।

এস্তোনিয়ার বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপে নতুন সুযোগ

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি গ্রহণে উভয় দেশ নীতিগতভাবে ইতিবাচক মত দেয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জোর

অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও আগ্রহ

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্ভাব্য পারস্পরিক সফর, পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময়, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প সহযোগিতাসংক্রান্ত ঝুলে থাকা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে এস্তোনিয়া

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয় এস্তোনিয়া।

বৈঠকের আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগ—এই তিন খাতে সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে এবং ইউরোপের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ই-গভর্নেন্স ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

আপডেট সময় ০২:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ই-গভর্নেন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের প্রযুক্তিনির্ভর দেশ এস্তোনিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে দেশটি।

এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে সোমবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়া দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে (ফরেন অফিস কনসালটেশন) এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ।

ডিজিটাল সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব

বৈঠকে উভয় দেশ রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন এবং আধুনিক ই-গভর্নেন্স কাঠামো গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এস্তোনিয়া।

এস্তোনিয়ার বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপে নতুন সুযোগ

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি গ্রহণে উভয় দেশ নীতিগতভাবে ইতিবাচক মত দেয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জোর

অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

এ লক্ষ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও আগ্রহ

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্ভাব্য পারস্পরিক সফর, পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময়, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প সহযোগিতাসংক্রান্ত ঝুলে থাকা কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে এস্তোনিয়া

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয় এস্তোনিয়া।

বৈঠকের আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগ—এই তিন খাতে সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে এবং ইউরোপের ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।