ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ইউ-টার্ন? হামলা স্থগিত, সামনে কি নতুন সমঝোতার পথ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যোগাযোগে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলে সামরিক পদক্ষেপ আবারও শুরু হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি এমন দিকে এগোতে পারে যেখানে সামরিক উত্তেজনা কমে আসবে। তবে আলোচনার ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এখনো বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তিনি বলেন, ইরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার অনুরোধ করেছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন’।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর। ওই হামলার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান অভিযান শুরু করে।
এর জবাবে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। টানা ১৩ রাত ধরে পাল্টাপাল্টি অভিযানের পর গত ২৫ জুলাই সেন্টকম সামরিক কার্যক্রমে বিরতি দেয়। এরপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সম্প্রতি রয়টার্সকে জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান ‘হামলার জবাবে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখে, ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন মোড় নিতে পারে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
























