ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্মাণসামগ্রী লুটঃ গজারিয়ায় ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯, উদ্ধার কোটি টাকার মালামাল

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে যায়। সেখানে ৩-৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনারে আটকে রেখে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তী অভিযানে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ট্রাকটিও জব্দ করা হয় এবং এর চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে শ্রমিক ও স্থানীয় সহযোগীসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনাটি সংঘটিত হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকদের নিয়ে নির্মাণসামগ্রী লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে ঢাকার তেজগাঁও থেকে একটি দল গজারিয়ায় এসে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
তদন্তে এখন পর্যন্ত ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার ও জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ১০ ফুট লম্বা একটি পাইপ এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ টন লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নির্মাণসামগ্রী লুটঃ গজারিয়ায় ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯, উদ্ধার কোটি টাকার মালামাল

আপডেট সময় ০৪:৪৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে যায়। সেখানে ৩-৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনারে আটকে রেখে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তী অভিযানে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ট্রাকটিও জব্দ করা হয় এবং এর চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে শ্রমিক ও স্থানীয় সহযোগীসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনাটি সংঘটিত হয়। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকদের নিয়ে নির্মাণসামগ্রী লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে ঢাকার তেজগাঁও থেকে একটি দল গজারিয়ায় এসে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
তদন্তে এখন পর্যন্ত ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার ও জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ১০ ফুট লম্বা একটি পাইপ এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ টন লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।