ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮০ দিনে সরকারের ব্যর্থতা, জনভোগান্তি ও আস্থার সংকটের অভিযোগ ১১ দলের

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির বদলে জনভোগান্তি বেড়েছে এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে—এমন অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে জোটের মূল্যায়ন তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলামের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সার সংকটের কারণে কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে সরকার নিজেদের ১৮০ দিনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এতে জনগণের প্রকৃত দুর্ভোগ আড়াল হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনগণের কাছে জবাবদিহি করা এবং বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চাওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি তাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ঘাটতিকে সামনে এনেছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশের জন্য একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দেন তিনি।

ভারতনীতি নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভুগছে’ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে নতুন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, অভিন্ন নদীর পানি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং পুশ-ইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সুরাহা, শেখ হাসিনার বিচার এবং ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মনে করে ১১ দলীয় জোট।

লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

বৈঠকে আসন্ন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চ তাদের একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এতে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবিলা করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ করবে জোট। ৩১ অক্টোবর খুলনা ও কুষ্টিয়া হয়ে যশোর এবং ২১ নভেম্বর রেলপথে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার কথা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১৮০ দিনে সরকারের ব্যর্থতা, জনভোগান্তি ও আস্থার সংকটের অভিযোগ ১১ দলের

আপডেট সময় ০২:৪৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতির বদলে জনভোগান্তি বেড়েছে এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে—এমন অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে জোটের মূল্যায়ন তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলামের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সার সংকটের কারণে কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার না করে সরকার নিজেদের ১৮০ দিনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এতে জনগণের প্রকৃত দুর্ভোগ আড়াল হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনগণের কাছে জবাবদিহি করা এবং বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চাওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি তাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ঘাটতিকে সামনে এনেছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের সুস্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশের জন্য একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দেন তিনি।

ভারতনীতি নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভুগছে’ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে নতুন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, অভিন্ন নদীর পানি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং পুশ-ইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সুরাহা, শেখ হাসিনার বিচার এবং ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মনে করে ১১ দলীয় জোট।

লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

বৈঠকে আসন্ন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চ তাদের একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এতে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবিলা করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ করবে জোট। ৩১ অক্টোবর খুলনা ও কুষ্টিয়া হয়ে যশোর এবং ২১ নভেম্বর রেলপথে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার কথা রয়েছে।