রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল? বিএনপিতে শুরু উত্তরসূরি খোঁজ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই তাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ। দলীয় দায়িত্ব, স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ, প্রাথমিক সদস্যপদ এবং মন্ত্রিসভার পদ থেকে তার পদত্যাগের খবরে সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালী।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে—রাষ্ট্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, বিএনপির মহাসচিব পদ এবং ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। সংসদ সচিবালয় ওই আসন শূন্য ঘোষণা করলে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
মহাসচিব পদে কার নাম এগিয়ে?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে বিএনপির ভেতরে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে তিন নেতার নাম—
- স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
তবে বিএনপির সাংগঠনিক রেওয়াজ বিবেচনায় রুহুল কবির রিজভীর নামই আপাতত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে মনে করছেন। কারণ তিনি বর্তমানে মন্ত্রিসভার বাইরে রয়েছেন এবং পূর্ণ সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় আছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিলের আগে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। পরে কাউন্সিলে স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অতীতেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। মির্জা ফখরুল নিজেও একসময় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে পূর্ণ মহাসচিব হন।
সালাহউদ্দিন ও আমির খসরুর সম্ভাবনা কতটা?
দুই নেতাই বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তবে তারা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে সরকার পরিচালনার স্বার্থে তাদের মহাসচিব পদে না আনার সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে মির্জা ফখরুলের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন কাউকে দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে—সেই বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সাংবিধানিক সময়সীমা
গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উত্তরণ নয়; এটি বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামো, মন্ত্রিসভা এবং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিন্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিএনপির মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।























