ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের টানাপোড়েন থেকে রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি? সিলেটে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার একটি বাসায় বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবুল মিয়া স্থানীয় একটি কলোনির বাসিন্দা। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য সূত্র বিশ্লেষণ করে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। তিনি আগে ওই বাসায় নির্মাণ ও রংয়ের কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি তাহমিনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার দিন বাবুল মিয়া একটি ছুরি নিয়ে বাসাটিতে যান। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার চিৎকারে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসার বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

রায়নগরের এই ট্রিপল মার্ডার নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রেমের টানাপোড়েন থেকে রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি? সিলেটে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি

আপডেট সময় ০২:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার একটি বাসায় বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবুল মিয়া স্থানীয় একটি কলোনির বাসিন্দা। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য সূত্র বিশ্লেষণ করে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। তিনি আগে ওই বাসায় নির্মাণ ও রংয়ের কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি তাহমিনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার দিন বাবুল মিয়া একটি ছুরি নিয়ে বাসাটিতে যান। তাহমিনা তাকে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার চিৎকারে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসার বারান্দা দিয়ে পালিয়ে নিজের বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।

এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

রায়নগরের এই ট্রিপল মার্ডার নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।