ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফখরুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হলে বিএনপিতে নতুন সমীকরণ? মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেলে সংবিধান ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, দলীয় কর্মসূচি সমন্বয় এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রিজভীকে সাময়িকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য দৌড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নামও ঘুরে ফিরে আসছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রুহুল কবির রিজভী নিজেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে তার কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তার সঙ্গে আলোচনা করেননি। দল যেভাবে মূল্যায়ন করবে, শীর্ষ নেতৃত্বের সেই সিদ্ধান্তই তিনি মেনে নেবেন বলে জানান।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে গত এক দশকে নতুন কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ওই কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। তার আগে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা শুধু একটি সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনই হবে না; একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিন্যাসেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফখরুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হলে বিএনপিতে নতুন সমীকরণ? মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

আপডেট সময় ০৩:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেলে সংবিধান ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, দলীয় কর্মসূচি সমন্বয় এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রিজভীকে সাময়িকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য দৌড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নামও ঘুরে ফিরে আসছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রুহুল কবির রিজভী নিজেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে তার কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তার সঙ্গে আলোচনা করেননি। দল যেভাবে মূল্যায়ন করবে, শীর্ষ নেতৃত্বের সেই সিদ্ধান্তই তিনি মেনে নেবেন বলে জানান।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে গত এক দশকে নতুন কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ওই কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। তার আগে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা শুধু একটি সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনই হবে না; একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিন্যাসেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।