ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জুলাই ছিল সবার’: আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগি না করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

নিজস্ব সংবাদ :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি ছিল সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষ বিভিন্নভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন—কেউ দোয়া করেছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন, কেউ পোস্টার এঁকেছেন, গান গেয়েছেন কিংবা নীরবে সহায়তা করেছেন। অনেকের পরিচয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানেন না, তবুও তাদের অবদান আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও স্মরণ করেন আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশা ও ভ্যানচালক, চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষদের। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা বহু তরুণ-তরুণীও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলনের সফলতা সম্ভব হতো না।

স্ট্যাটাসে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আন্দোলনের পর ধীরে ধীরে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে দেখার চেষ্টা করছে। তার মতে, “কার অবদান কত” এই হিসাব করার মানসিকতা জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনাকে ছোট করে দেয়।

তিনি লিখেছেন, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দলের ছিল না; এটি ছিল সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, প্রবাসী, আলেম, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, চিকিৎসক, পেশাজীবীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন।

নাহিদ ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে তিনি নীরবে ঘরে ফিরে যাওয়া আন্দোলনের সমর্থক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সেই বার্তা পেয়েছেন, আবার সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের “১৬ কোটি বিপ্লবী মানুষের” প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাস্তবে সবার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তাদের অবদান তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন।

জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার সবকিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক লক্ষ্য অর্জন বাকি রয়েছে। তবে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন এবং দেশের যেকোনো সংকটে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘জুলাই ছিল সবার’: আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগি না করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় ০৪:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি ছিল সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষ বিভিন্নভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন—কেউ দোয়া করেছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন, কেউ পোস্টার এঁকেছেন, গান গেয়েছেন কিংবা নীরবে সহায়তা করেছেন। অনেকের পরিচয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানেন না, তবুও তাদের অবদান আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও স্মরণ করেন আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশা ও ভ্যানচালক, চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষদের। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা বহু তরুণ-তরুণীও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলনের সফলতা সম্ভব হতো না।

স্ট্যাটাসে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আন্দোলনের পর ধীরে ধীরে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে দেখার চেষ্টা করছে। তার মতে, “কার অবদান কত” এই হিসাব করার মানসিকতা জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনাকে ছোট করে দেয়।

তিনি লিখেছেন, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দলের ছিল না; এটি ছিল সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, প্রবাসী, আলেম, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, চিকিৎসক, পেশাজীবীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন।

নাহিদ ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে তিনি নীরবে ঘরে ফিরে যাওয়া আন্দোলনের সমর্থক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। অনেকেই সেই বার্তা পেয়েছেন, আবার সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের “১৬ কোটি বিপ্লবী মানুষের” প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাস্তবে সবার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তাদের অবদান তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন।

জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার সবকিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক লক্ষ্য অর্জন বাকি রয়েছে। তবে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন এবং দেশের যেকোনো সংকটে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন।