ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন জাতির পবিত্র দায়িত্ব: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রয়োগ এবং গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করাকে জাতির প্রতি এক ‘পবিত্র দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও নতুন কোনো স্বৈরাচার যেন আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন ও একনায়কতন্ত্রের কোনো স্থান থাকবে না।”

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই বছর আগে জুলাই মাসের আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল। ছাত্রসমাজ অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু করেছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। পুরো জুলাইয়ের সংগ্রামকে ধারণ করতেই অনেকেই দিনটিকে ‘৩৬ জুলাই’ নামে স্মরণ করে।”

তরুণ নির্মাতাদের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে ডকুফিল্ম ও চিত্রকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত শিল্পকর্ম ও প্রামাণ্যচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এগুলো শুধু সৃজনশীল প্রকাশ নয়, বরং ইতিহাসের স্মারক হিসেবেও মূল্যবান।

বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অপরাধীদের বিচার না হলে ভবিষ্যতে নতুন অপরাধী তৈরি হবে। তাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণরায়ের প্রতিফলন এবং জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সবাইকে ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তরুণ নির্মাতারা অংশ নেন.

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন জাতির পবিত্র দায়িত্ব: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকর প্রয়োগ এবং গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করাকে জাতির প্রতি এক ‘পবিত্র দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও নতুন কোনো স্বৈরাচার যেন আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সে বিষয়ে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন ও একনায়কতন্ত্রের কোনো স্থান থাকবে না।”

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই বছর আগে জুলাই মাসের আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল। ছাত্রসমাজ অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু করেছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। পুরো জুলাইয়ের সংগ্রামকে ধারণ করতেই অনেকেই দিনটিকে ‘৩৬ জুলাই’ নামে স্মরণ করে।”

তরুণ নির্মাতাদের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে ডকুফিল্ম ও চিত্রকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত শিল্পকর্ম ও প্রামাণ্যচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এগুলো শুধু সৃজনশীল প্রকাশ নয়, বরং ইতিহাসের স্মারক হিসেবেও মূল্যবান।

বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অপরাধীদের বিচার না হলে ভবিষ্যতে নতুন অপরাধী তৈরি হবে। তাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণরায়ের প্রতিফলন এবং জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সবাইকে ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তরুণ নির্মাতারা অংশ নেন.