অনলাইন ভুয়া প্রলোভনে মানবপাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার ফাঁদ ব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানবপাচার-বিরোধী দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মানবপাচারের শিকার উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তথ্যচিত্র নিয়ে তৈরি আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার শুধু একজন মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেয় না, এটি সমাজের মানবিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মানুষকে বিদেশে নিয়ে প্রতারণামূলক কাজ, সাইবার স্ক্যাম এবং জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করছে।
তিনি জানান, এই নতুন ধরনের বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে মানবপাচারের প্রকৃত মানবিক ক্ষতি বোঝানো সম্ভব নয়। ‘লিসেন’ গ্রন্থে উঠে আসা ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমাজকে সচেতন করবে এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এই অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগই এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইওএমের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ বাংলাদেশের পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

























