ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য। জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন কিংবা এ ধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগে ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলাটি করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন ও পেনসিলভেনিয়া। এ ছাড়া আরও ১৭টি অঙ্গরাজ্য মামলায় যুক্ত হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর, প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আবারও পরিবার ও ব্যবসার ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, অন্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাব হিসেবে এ শুল্ক আরোপ যথাযথ এবং আইনসম্মত। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে বা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে না, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’
গত জুলাই মাসে ভারত, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ান, চীনসহ ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে পণ্য উৎপাদন এবং এ ধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৪ সালে প্রণীত বাণিজ্য আইনের (ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪) ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর সে বছর ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুযায়ী ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত জরুরি অর্থনীতি আইনকে (ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট- আইইপিএ) ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে— এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন তিনি।
পুরো ২০২৫ সালজুড়ে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) হাতিয়ার হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


























