ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়ে বিপর্যয়ের পর বিসিবির নতুন বার্তা: ‘এক সিরিজে বিচার নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’

নিজস্ব সংবাদ :

সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা এসেছে জিম্বাবুয়ে সফরে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারার পাশাপাশি একমাত্র টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে টাইগাররা। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়েছে ক্রিকেটাঙ্গনে।

এই পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, একটি সিরিজের ফলাফল দেখে তড়িঘড়ি করে ক্রিকেটার বা টিম ম্যানেজমেন্টকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার পক্ষে নন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থায়ী উন্নতির জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, একটি সিরিজ জিতলেই পুরস্কার দেওয়া এবং হারলেই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা পেশাদার ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি জানান, অন্তত ছয় মাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে এবং সেই সময় শেষে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।

ভারত সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা

সম্প্রতি ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন নিয়ে নতুন আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ভারত সরকারের অনুমোদন মিললেই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারতীয় দল।

এ বিষয়ে তামিম ইকবাল সরাসরি কিছু নিশ্চিত না করলেও জানান, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কোচ নিয়োগে থাকবে না কোনো তদবির

জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচ নিয়োগ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই কেবল ভাইভার জন্য ডাকা হবে বলে জানান তিনি।

কোচিং ব্যবস্থার বর্তমান মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তামিম একটি মজার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেন। তার ভাষায়, পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে তিনি এমন উত্তর পেয়েছেন যেখানে ‘ওয়াইড বলে কীভাবে আউট হয়’ প্রশ্নের উত্তরে কেউ লিখেছেন ‘বোল্ড ও এলবিডব্লিউ’। এই উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে কোচদের দক্ষতা উন্নয়নে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

পূর্বাচলে সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়বে বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তামিম ইকবাল। তিনি জানান, বিসিবি নিজেদের অর্থায়নে পূর্বাচলে একটি আধুনিক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ ছাড়া পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। সরকারি অর্থায়ন পাওয়া গেলে স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশার মধ্যেও বিসিবির এই বার্তা স্পষ্ট—তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জিম্বাবুয়ে বিপর্যয়ের পর বিসিবির নতুন বার্তা: ‘এক সিরিজে বিচার নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’

আপডেট সময় ০২:১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা এসেছে জিম্বাবুয়ে সফরে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারার পাশাপাশি একমাত্র টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে টাইগাররা। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়েছে ক্রিকেটাঙ্গনে।

এই পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, একটি সিরিজের ফলাফল দেখে তড়িঘড়ি করে ক্রিকেটার বা টিম ম্যানেজমেন্টকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার পক্ষে নন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থায়ী উন্নতির জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, একটি সিরিজ জিতলেই পুরস্কার দেওয়া এবং হারলেই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা পেশাদার ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি জানান, অন্তত ছয় মাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে এবং সেই সময় শেষে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।

ভারত সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা

সম্প্রতি ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন নিয়ে নতুন আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ভারত সরকারের অনুমোদন মিললেই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারতীয় দল।

এ বিষয়ে তামিম ইকবাল সরাসরি কিছু নিশ্চিত না করলেও জানান, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কোচ নিয়োগে থাকবে না কোনো তদবির

জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কোচ নিয়োগ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই কেবল ভাইভার জন্য ডাকা হবে বলে জানান তিনি।

কোচিং ব্যবস্থার বর্তমান মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তামিম একটি মজার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেন। তার ভাষায়, পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে তিনি এমন উত্তর পেয়েছেন যেখানে ‘ওয়াইড বলে কীভাবে আউট হয়’ প্রশ্নের উত্তরে কেউ লিখেছেন ‘বোল্ড ও এলবিডব্লিউ’। এই উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে কোচদের দক্ষতা উন্নয়নে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

পূর্বাচলে সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়বে বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তামিম ইকবাল। তিনি জানান, বিসিবি নিজেদের অর্থায়নে পূর্বাচলে একটি আধুনিক ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ ছাড়া পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। সরকারি অর্থায়ন পাওয়া গেলে স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশার মধ্যেও বিসিবির এই বার্তা স্পষ্ট—তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।