ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ওসিকে জবাবদিহি

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল, সমাবেশ কিংবা সাংগঠনিক তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দলটির যেকোনো ধরনের কর্মসূচি প্রতিরোধে থানার ওসিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ৫০টি থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রাজধানীর গুলশানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মিছিলটি শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল।

তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে সংগঠিত হয়ে মিছিল কিংবা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে থানা পুলিশকে আগাম সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভায় আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজধানীতে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নগরীর প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আবাসিক হোটেলগুলোর ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। হোটেলে অবস্থানকারী অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় থানার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় ওসিদের থানায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে জিডিতে বিষয়টি উল্লেখ করে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা পুলিশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়েও ওসিদের সতর্ক করা হয়।

এ ছাড়া অপরাধ দমনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আ.লীগের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ওসিকে জবাবদিহি

আপডেট সময় ০২:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল, সমাবেশ কিংবা সাংগঠনিক তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দলটির যেকোনো ধরনের কর্মসূচি প্রতিরোধে থানার ওসিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ৫০টি থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রাজধানীর গুলশানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মিছিলটি শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা ছিল।

তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে সংগঠিত হয়ে মিছিল কিংবা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে থানা পুলিশকে আগাম সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভায় আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজধানীতে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নগরীর প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আবাসিক হোটেলগুলোর ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। হোটেলে অবস্থানকারী অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় থানার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় ওসিদের থানায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে জিডিতে বিষয়টি উল্লেখ করে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা পুলিশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়েও ওসিদের সতর্ক করা হয়।

এ ছাড়া অপরাধ দমনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।