ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকট কাটছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই শিল্পে সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই মতবিনিময় সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, শিল্পখাতের সংকট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তার অন্যতম কারণ দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়া। এর প্রভাব শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে সরকার আশা করছে। এতে শিল্প উৎপাদনে তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কমবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংকট সমাধানে সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে দীর্ঘদিনের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বড় ঘাটতি অল্প কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পর সেটি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এর প্রস্তুতিমূলক কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সূচিও তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে সরকারের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে।

‘অস্থিতিশীলতা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি’

দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোন দল বা ব্যক্তি ভবিষ্যতে জনগণের দায়িত্ব পাবে, সেটি নির্ধারণ করবে জনগণই। কিন্তু যে সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রথম ধাক্কা আসে ব্যবসা-বাণিজ্যে। আর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু উদ্যোক্তাদের স্বার্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি সরাসরি জড়িত।

‘হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই’

সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যাগুলো গোপন না করে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংকটের পরিমাণ ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সমাজ অবগত। সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কোন পথে সমস্যার সমাধান করতে চায়, সেটিও তাদের জানানো হয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

২০২৮ সালের মধ্যে বাড়তে পারে এলএনজি টার্মিনাল

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন কারিগরি সমস্যায় অচল থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। সরকার সেটি মেরামতের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগেই সম্ভব হলে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে দেশের এফএসআরইউ সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ভবিষ্যতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

বিদ্যুৎ খাতে তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

তার মতে, ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের নির্ভরতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের আশ্বাস

সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়ানো হবে, বৈঠকে তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গৃহস্থালি পর্যায়েও ভোগান্তি দেখা দেয়। তবে চলতি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, এমসিসিআইসহ ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করলে দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গ্যাস সংকট কাটছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই শিল্পে সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০২:৪২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই মতবিনিময় সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, শিল্পখাতের সংকট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তার অন্যতম কারণ দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দুর্ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়া। এর প্রভাব শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের তুলনায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে সরকার আশা করছে। এতে শিল্প উৎপাদনে তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কমবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংকট সমাধানে সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে দীর্ঘদিনের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বড় ঘাটতি অল্প কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পর সেটি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এর প্রস্তুতিমূলক কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সূচিও তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে সরকারের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে।

‘অস্থিতিশীলতা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি’

দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোন দল বা ব্যক্তি ভবিষ্যতে জনগণের দায়িত্ব পাবে, সেটি নির্ধারণ করবে জনগণই। কিন্তু যে সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রথম ধাক্কা আসে ব্যবসা-বাণিজ্যে। আর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতের সক্ষমতা বাড়ানো শুধু উদ্যোক্তাদের স্বার্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি সরাসরি জড়িত।

‘হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই’

সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যাগুলো গোপন না করে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংকটের পরিমাণ ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সমাজ অবগত। সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কোন পথে সমস্যার সমাধান করতে চায়, সেটিও তাদের জানানো হয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই।

২০২৮ সালের মধ্যে বাড়তে পারে এলএনজি টার্মিনাল

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন কারিগরি সমস্যায় অচল থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। সরকার সেটি মেরামতের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগেই সম্ভব হলে তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে দেশের এফএসআরইউ সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ভবিষ্যতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব

বিদ্যুৎ খাতে তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

তার মতে, ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশের নির্ভরতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের আশ্বাস

সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়ানো হবে, বৈঠকে তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গৃহস্থালি পর্যায়েও ভোগান্তি দেখা দেয়। তবে চলতি মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, এমসিসিআইসহ ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করলে দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।