ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে আবারও দেশব্যাপী বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এমন কঠোর অবস্থান নিল দলটি।

মঙ্গলবার সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সাম্প্রতিক আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানি করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এবং যাদের পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের মুক্তি দিতে হবে।

তবে আদালত একই সঙ্গে এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও বহাল রাখে। দিল্লি এনসিটিসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আদালতের এই অবস্থান সরকারের পূর্ব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সরকার স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই দলটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।

সিজেপির আশঙ্কা, তদন্ত অব্যাহত রাখার সুযোগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হতে পারে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সরকারের আইনজীবীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও আদালতে বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। অবিলম্বে সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। অন্যথায় শিক্ষার্থী যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষায় সিজেপি আবারও রাজপথে নামবে।

এর আগেও সোমবার দলটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছিলেন, সরকার সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে বহু প্রতিবাদকারীকে আটক করেছে। তিনি সব শিক্ষার্থীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে মামলা দায়ের না করার দাবি জানান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হলে সিজেপি তাদের সমর্থনে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিত করা হলেও সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা পুলিশের তৎপরতা সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির

আপডেট সময় ০২:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে আবারও দেশব্যাপী বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এমন কঠোর অবস্থান নিল দলটি।

মঙ্গলবার সিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সাম্প্রতিক আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের শুনানি করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এবং যাদের পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের মুক্তি দিতে হবে।

তবে আদালত একই সঙ্গে এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও বহাল রাখে। দিল্লি এনসিটিসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আদালতের এই অবস্থান সরকারের পূর্ব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সরকার স্পষ্টভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই দলটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।

সিজেপির আশঙ্কা, তদন্ত অব্যাহত রাখার সুযোগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হতে পারে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সরকারের আইনজীবীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও আদালতে বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। অবিলম্বে সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। অন্যথায় শিক্ষার্থী যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষায় সিজেপি আবারও রাজপথে নামবে।

এর আগেও সোমবার দলটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছিলেন, সরকার সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে বহু প্রতিবাদকারীকে আটক করেছে। তিনি সব শিক্ষার্থীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে মামলা দায়ের না করার দাবি জানান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হলে সিজেপি তাদের সমর্থনে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিত করা হলেও সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা পুলিশের তৎপরতা সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।