ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প: কুমামোতোতে ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, নিহত অন্তত ১৩

নিজস্ব সংবাদ :

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায়। শহরের একটি বড় শপিংমলে উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল অপেক্ষাকৃত অগভীর এলাকায়, ফলে কাঁপুনি ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ মনে হলো মাটি যেন দুলতে শুরু করেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে দোকানের তাক থেকে পণ্য মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে এবং শিশুরা আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। একটি ভিডিও শপিংমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের একটি দোকানে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০১৬ সালের ভয়াবহ কুমামোতো ভূমিকম্পের পর অক্ষত থেকে যাওয়া কোনো ফল্ট লাইনে চাপ সঞ্চিত হওয়ার ফলেই এবার নতুন কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে একই অঞ্চলে দুই দিনের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৫ ও ৭ দশমিক ৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই দুর্যোগে ২৭০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বর্তমানে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও বিশেষ উদ্ধারকারী ইউনিট যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। আফটারশকের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প: কুমামোতোতে ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, নিহত অন্তত ১৩

আপডেট সময় ০২:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায়। শহরের একটি বড় শপিংমলে উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করবে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল অপেক্ষাকৃত অগভীর এলাকায়, ফলে কাঁপুনি ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ মনে হলো মাটি যেন দুলতে শুরু করেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে দোকানের তাক থেকে পণ্য মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে এবং শিশুরা আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। একটি ভিডিও শপিংমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের একটি দোকানে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০১৬ সালের ভয়াবহ কুমামোতো ভূমিকম্পের পর অক্ষত থেকে যাওয়া কোনো ফল্ট লাইনে চাপ সঞ্চিত হওয়ার ফলেই এবার নতুন কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে একই অঞ্চলে দুই দিনের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৫ ও ৭ দশমিক ৩ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই দুর্যোগে ২৭০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বর্তমানে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও বিশেষ উদ্ধারকারী ইউনিট যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। আফটারশকের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।