প্রশ্নফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর আইন ও ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা মোদির
ভারতে প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ ও বিতর্কের মধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট–ট্র্যাক কোর্ট গঠন এবং দোষীদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান আনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁস শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার মতামত যুক্ত করে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদের চলমান অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এটি পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত আড়াই মাসে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে সরকার শুধু গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
মোদি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সে কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ফলাফলও প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।
ভিডিও বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। যারা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে একই দিন সকালে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বক্তব্য দেন নরেন্দ্র মোদি। তখনও তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিতে ফাস্ট–ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
























