ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন মোড়: এআই দাবি নাকচ, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদন:

সাতক্ষীরা (শ্যামনগরকালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে দলীয় পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে সেটিকে প্রকৃত ফুটেজ বলে উল্লেখ করেছে।

এরই মধ্যে লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম মরিয়ম বেগম এবং তার বয়স ১৮ বছর। তিনি আরও জানান, ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারে একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে ধারণ করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে এমপি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে অফিসে প্রবেশ করান।

গাজী নজরুলের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের নামে হয়রানি করেন এবং পরে নিচে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অর্থ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন। তিনি জানান, চালকের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা করা হয়।

তার অভিযোগ, পরে চালক তার কাছে লাখ টাকা এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে ভিডিও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়াসংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ক্রাইম বার্তা একাধিক পোস্টে দাবি করেছিল, এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ভিডিও। তবে পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স তাদের বিশ্লেষণে ভিডিওটিকে আসল বলে উল্লেখ করায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে তার ব্যক্তিগত পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভিডিওটির বিস্তার, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন মোড়: এআই দাবি নাকচ, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের

আপডেট সময় ১২:২৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন:

সাতক্ষীরা (শ্যামনগরকালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে দলীয় পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে সেটিকে প্রকৃত ফুটেজ বলে উল্লেখ করেছে।

এরই মধ্যে লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম মরিয়ম বেগম এবং তার বয়স ১৮ বছর। তিনি আরও জানান, ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারে একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে ধারণ করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে এমপি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে অফিসে প্রবেশ করান।

গাজী নজরুলের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের নামে হয়রানি করেন এবং পরে নিচে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অর্থ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।

সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন। তিনি জানান, চালকের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা করা হয়।

তার অভিযোগ, পরে চালক তার কাছে লাখ টাকা এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে ভিডিও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়াসংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ক্রাইম বার্তা একাধিক পোস্টে দাবি করেছিল, এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ভিডিও। তবে পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল লেন্স তাদের বিশ্লেষণে ভিডিওটিকে আসল বলে উল্লেখ করায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম পুরো ঘটনাকে তার ব্যক্তিগত পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভিডিওটির বিস্তার, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।