৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত, শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকার বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিএনপির দীর্ঘদিনের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
বৈঠকের পরিবেশ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতি, কারাবরণ, গুম, হত্যা এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের নানা অভিজ্ঞতা আলোচনায় উঠে আসে। ফলে পুরো আয়োজনটি ছিল আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে শরিক দলগুলোর নেতারাও সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাদের ভূমিকা দেশের মানুষ স্মরণ রাখবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে শুরুতে নিয়মিত বৈঠক সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদারে শরিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক আয়োজন করা হবে।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি দুর্বল অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য থেকে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং জনগণের কাছে সরকারকে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ, যা আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।
ব্রিফিংয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং উপ–প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

























