ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরিকদের পাশে রাখতেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, যমুনার বৈঠক নিয়ে যা বললেন মাহমুদুর রহমান মান্না

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদন:

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার মতে, সরকার চায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না হয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকুক।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মান্না বলেন, তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে চেয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা সরকারের কাছাকাছি থাকুক। যারা সরকারে সরাসরি যুক্ত নন কিংবা কিছুটা দূরত্বে রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ এই বৈঠকে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকের পরিবেশকে সৌজন্যমূলক উল্লেখ করে মান্না জানান, আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত কোনো এজেন্ডা ছিল না। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। কেউ সরকারে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ অভিযোগ করেছেন যে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা পর্যাপ্তভাবে অবগত নন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততার সুযোগও সীমিত।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়েও উপস্থিত নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।

বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও সংস্কার ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, তিনি অন্য দলগুলোর অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। তার ভাষ্য, সংস্কার কার্যক্রম, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের সময় যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে সেগুলোর যথেষ্ট মিল তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তবে এসব বিষয় বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় স্থান পায়নি।

মান্না বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনে থাকলেও সরকারের ব্যর্থতা চান না। বরং সরকার যেন নিজস্ব সক্ষমতায় সফল হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার কোনো সংকটে পড়ে সহযোগিতা চাওয়ার কারণে এই বৈঠক হয়নি; বরং এটি ছিল সৌজন্য ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ।

ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি আবার বৈঠকের আহ্বান আসে, তারা অবশ্যই অংশ নেবেন। তবে নিয়মিত বৈঠকের ঘোষণা বাস্তবেও কার্যকর হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শরিকদের পাশে রাখতেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, যমুনার বৈঠক নিয়ে যা বললেন মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেট সময় ০৪:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন:

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার মতে, সরকার চায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না হয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকুক।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মান্না বলেন, তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে চেয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা সরকারের কাছাকাছি থাকুক। যারা সরকারে সরাসরি যুক্ত নন কিংবা কিছুটা দূরত্বে রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ এই বৈঠকে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকের পরিবেশকে সৌজন্যমূলক উল্লেখ করে মান্না জানান, আলোচনার জন্য পূর্বনির্ধারিত কোনো এজেন্ডা ছিল না। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। কেউ সরকারে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ অভিযোগ করেছেন যে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা পর্যাপ্তভাবে অবগত নন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততার সুযোগও সীমিত।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়েও উপস্থিত নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।

বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও সংস্কার ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, তিনি অন্য দলগুলোর অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। তার ভাষ্য, সংস্কার কার্যক্রম, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের সময় যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে সেগুলোর যথেষ্ট মিল তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তবে এসব বিষয় বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় স্থান পায়নি।

মান্না বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনে থাকলেও সরকারের ব্যর্থতা চান না। বরং সরকার যেন নিজস্ব সক্ষমতায় সফল হয়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার কোনো সংকটে পড়ে সহযোগিতা চাওয়ার কারণে এই বৈঠক হয়নি; বরং এটি ছিল সৌজন্য ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ।

ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি আবার বৈঠকের আহ্বান আসে, তারা অবশ্যই অংশ নেবেন। তবে নিয়মিত বৈঠকের ঘোষণা বাস্তবেও কার্যকর হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তিনি।