ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মিলল দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল সামগ্রী

নিজস্ব সংবাদ :

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই দিনের ইনভেন্টরি কার্যক্রম শেষে প্রাথমিকভাবে ২৬৯ ধরনের প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ। তিনি জানান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গুলশানের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের এ-৭ ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরি করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৪০০টি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, প্রায় ১০০টি কামিজ, আটটি ঘড়ির বক্স, যার মধ্যে চারটিতে ছিল রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ি। এছাড়া মুক্তার গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), সিলিং ফ্যান, ট্রেডমিল, ফ্রিজ, স্যুটকেস, চেয়ার-টেবিলসহ নানা মূল্যবান গৃহস্থালি সামগ্রীও পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয় রসিদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটির সম্ভাব্য মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদের উৎস, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শুরুতে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও পরে তা পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দুদকের একাধিক মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনভেন্টরি কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগও রয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মিলল দেড় হাজারের বেশি বিলাসবহুল সামগ্রী

আপডেট সময় ১২:১৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই দিনের ইনভেন্টরি কার্যক্রম শেষে প্রাথমিকভাবে ২৬৯ ধরনের প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ। তিনি জানান, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গুলশানের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের এ-৭ ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরি করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৪০০টি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, প্রায় ১০০টি কামিজ, আটটি ঘড়ির বক্স, যার মধ্যে চারটিতে ছিল রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ি। এছাড়া মুক্তার গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), সিলিং ফ্যান, ট্রেডমিল, ফ্রিজ, স্যুটকেস, চেয়ার-টেবিলসহ নানা মূল্যবান গৃহস্থালি সামগ্রীও পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়িগুলোর ক্রয় রসিদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটির সম্ভাব্য মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদের উৎস, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শুরুতে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও পরে তা পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দুদকের একাধিক মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনভেন্টরি কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।

এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগও রয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।