ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপে তেলের দাম ৯০ ডলার পেরোল, চাপে স্বর্ণবাজার

নিজস্ব সংবাদ :

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের সীমা অতিক্রম করায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ০.১ শতাংশ কমে ৪,০১৪.৫৩ ডলারে নেমে আসে। তবে আগস্টে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪,০১৯.৮০ ডলারে অবস্থান করে।

এদিকে, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও দাবি করেছে, রোববার নতুন করে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওনডার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তার মতে, যদি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা দেখা দেয়, তাহলে স্বর্ণের বাজারও চাপে পড়তে পারে। কারণ উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদে প্রতি আউন্স ৩,৮৮৬ ডলার স্বর্ণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তর। এই সীমার নিচে দাম নেমে গেলে তা আরও কমে ৩,৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে রুপার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম প্রায় ১.৯ শতাংশ বেড়ে ৫৬.৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতুর বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপে তেলের দাম ৯০ ডলার পেরোল, চাপে স্বর্ণবাজার

আপডেট সময় ০৪:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের সীমা অতিক্রম করায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ০.১ শতাংশ কমে ৪,০১৪.৫৩ ডলারে নেমে আসে। তবে আগস্টে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪,০১৯.৮০ ডলারে অবস্থান করে।

এদিকে, জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও দাবি করেছে, রোববার নতুন করে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওনডার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তার মতে, যদি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা দেখা দেয়, তাহলে স্বর্ণের বাজারও চাপে পড়তে পারে। কারণ উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদে প্রতি আউন্স ৩,৮৮৬ ডলার স্বর্ণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্তর। এই সীমার নিচে দাম নেমে গেলে তা আরও কমে ৩,৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে রুপার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম প্রায় ১.৯ শতাংশ বেড়ে ৫৬.৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতুর বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।