ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরলে বিচারমুখী হবেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে। অভিযুক্ত চাইলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ধারণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

উপদেষ্টা বলেন, অভিযুক্তের দোষ বা নির্দোষ নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার আদালতের। আদালত যদি তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন কিংবা অন্য কোনো রায় দেন, সরকার সেটিও মেনে নেবে। সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি সরকার কোনো রাজনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি একটি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আদালতের নির্দেশ

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এই নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে, তাহলে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে সরকারও সেটি কার্যকর করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আইন মানার আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী কোনো বক্তব্য বা কনটেন্ট ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আইনের প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আদালতের নির্দেশনা মেনে চললে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী হবে।

বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে কাজ চলছে

ব্রিফিংয়ে বিচার বিভাগের সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে ফিরলে বিচারমুখী হবেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৯:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে। অভিযুক্ত চাইলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ধারণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

উপদেষ্টা বলেন, অভিযুক্তের দোষ বা নির্দোষ নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার আদালতের। আদালত যদি তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন কিংবা অন্য কোনো রায় দেন, সরকার সেটিও মেনে নেবে। সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি সরকার কোনো রাজনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি একটি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আদালতের নির্দেশ

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এই নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে, তাহলে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে সরকারও সেটি কার্যকর করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আইন মানার আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী কোনো বক্তব্য বা কনটেন্ট ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আইনের প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আদালতের নির্দেশনা মেনে চললে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী হবে।

বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে কাজ চলছে

ব্রিফিংয়ে বিচার বিভাগের সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।