নতুন সংবিধান নয়, সংশোধনেই সম্ভব বড় পরিবর্তন’—জুলাই সনদ অনুযায়ী এগোবে সরকার: ডা. জাহেদ উর রহমান
নিজস্ব সংবাদ :
সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজন নেই; বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার জুলাই সনদকে ভিত্তি করেই এগোবে। তবে সংবিধান সংশোধনের কয়েকটি বিষয়ে সরকারের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। এসব মতপার্থক্য মূলত সংশোধনের পদ্ধতি ও কিছু কাঠামোগত বিষয়কে কেন্দ্র করে।
তিনি বলেন, অতীতেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সংশোধনীতে সংবিধানের উল্লেখযোগ্য অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে এর কিছু ধারা বাতিল হয়, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিষয়টিও ছিল।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরে আসাও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়নই একমাত্র পথ—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তিনি জানান, উচ্চকক্ষ (আপার হাউস) গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে ঐকমত্য থাকলেও এটি কীভাবে গঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি তাদের অবস্থান আগে থেকেই জনগণের সামনে তুলে ধরে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সেই রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ভবিষ্যতে সংবিধানে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। তার মতে, সাংবিধানিক প্রশ্নে জনগণের মতামত গুরুত্বপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে মতপার্থক্যের সমাধান হয় সংসদের ভেতরে যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে। কোনো প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে পাস না হলেও জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে সেই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনা, বিতর্ক এবং জনগণের রায়ই চূড়ান্ত পথ।