দুর্যোগ পরিস্থিতি নিজেই পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে সরকার যতদিন প্রয়োজন
পাহাড় ধস ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার দীর্ঘমেয়াদে থাকবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি নিজেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকায় লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম সংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা চলমান থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে। তিনি কয়েকদিন ওই অঞ্চলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। অন্যদিকে তিন পার্বত্য জেলা ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবস্থা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, পানি নেমে গেলে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
দুর্যোগের কারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হ্রদ ও জলাধারের নাব্যতা হ্রাস কিংবা পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। প্রকৃতির ওপর অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপের কারণে আজকের সংকট আরও জটিল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখানে থাকা মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি সফর শেষে রাতে রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টোসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।






















