ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনার ভয়াল ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে মাদরাসা, ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা মানিকগঞ্জের মানুষ

নিজস্ব সংবাদ :

বর্ষার পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জে পদ্মা ও যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর এলাকায়, যেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত চরকালিকাপুর দাখিল মাদরাসার চারতলা দুটি ভবনের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে ধসে পড়েছে। নদীর ভাঙন মূল ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বাকি বিল্লাহ জানান, কয়েক দিনের টানা ভাঙনে নদী দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির দিকে এগিয়ে এসেছে। গত বছর এবং চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে সেগুলোও টিকছে না। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, আশপাশের বহু গ্রামও নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ নিজের চোখের সামনে ঘরবাড়ি নদীতে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী, কাশিধারা, চরকালিকাপুর, আলোকদিয়া ও মধ্যনগর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে পদ্মা ও যমুনার দুই তীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বসতবাড়ি এবং প্রায় ৫০ হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে। সংস্থাটির নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, পদ্মা ও যমুনা নদীর দুই তীরের প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে দৌলতপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যমুনার ভয়াল ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে মাদরাসা, ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা মানিকগঞ্জের মানুষ

আপডেট সময় ০৬:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বর্ষার পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জে পদ্মা ও যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর এলাকায়, যেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত চরকালিকাপুর দাখিল মাদরাসার চারতলা দুটি ভবনের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে ধসে পড়েছে। নদীর ভাঙন মূল ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বাকি বিল্লাহ জানান, কয়েক দিনের টানা ভাঙনে নদী দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির দিকে এগিয়ে এসেছে। গত বছর এবং চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে সেগুলোও টিকছে না। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, আশপাশের বহু গ্রামও নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ নিজের চোখের সামনে ঘরবাড়ি নদীতে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী, কাশিধারা, চরকালিকাপুর, আলোকদিয়া ও মধ্যনগর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে পদ্মা ও যমুনার দুই তীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বসতবাড়ি এবং প্রায় ৫০ হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে। সংস্থাটির নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, পদ্মা ও যমুনা নদীর দুই তীরের প্রায় ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে দৌলতপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।