ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে শেষ পর্যায়ের আলোচনা, জুলাইতেই আসতে পারে সুখবর

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। এখন দুই দেশের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী প্রথমে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ বৈঠক বাংলাদেশে হওয়ায় এবার নিয়ম অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় আয়োজন হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে গৃহীত সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এরপরই শ্রমবাজার চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ইতোমধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ পাওয়া যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, মালয়েশিয়া সরকার সিদ্ধান্ত নিলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করা সম্ভব।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু আইনি জটিলতা এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। বিশেষ করে শ্রমিক নিয়োগ, মানবপাচার ও অর্থপাচারসংক্রান্ত কয়েকটি মামলার অগ্রগতি মালয়েশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হলে শ্রমবাজার চালুর পথ আরও সহজ হবে।

জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী দেশে ফিরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুই মন্ত্রীর ঢাকা সফর হলে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির বিশেষ কেবিনেট কমিটি আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে। এই কমিটিই বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। ফলে ওই বৈঠকের দিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। যদিও একই সময়ে অন্যান্য সোর্স দেশের শ্রমিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক ও সিন্ডিকেটবিরোধী আলোচনা সৃষ্টি হয়। এখন দুই দেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে সেই অচলাবস্থার অবসান হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে শেষ পর্যায়ের আলোচনা, জুলাইতেই আসতে পারে সুখবর

আপডেট সময় ০২:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে। এখন দুই দেশের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী প্রথমে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ বৈঠক বাংলাদেশে হওয়ায় এবার নিয়ম অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় আয়োজন হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে গৃহীত সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এরপরই শ্রমবাজার চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ইতোমধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক সংবাদ পাওয়া যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, মালয়েশিয়া সরকার সিদ্ধান্ত নিলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করা সম্ভব।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু আইনি জটিলতা এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। বিশেষ করে শ্রমিক নিয়োগ, মানবপাচার ও অর্থপাচারসংক্রান্ত কয়েকটি মামলার অগ্রগতি মালয়েশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হলে শ্রমবাজার চালুর পথ আরও সহজ হবে।

জানা গেছে, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী দেশে ফিরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুই মন্ত্রীর ঢাকা সফর হলে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির বিশেষ কেবিনেট কমিটি আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে। এই কমিটিই বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। ফলে ওই বৈঠকের দিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। যদিও একই সময়ে অন্যান্য সোর্স দেশের শ্রমিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক ও সিন্ডিকেটবিরোধী আলোচনা সৃষ্টি হয়। এখন দুই দেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে সেই অচলাবস্থার অবসান হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।