ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল দুপুর দেড়টার পর এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত হাসানুল হক ইনু।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, আব্দুস সাত্তার তরাফদার, মীজানুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন আহসান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এছাড়া বহু আন্দোলনকারী আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইনুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, উসকানি, প্ররোচনা ও দমন-পীড়নে সহযোগিতাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। অভিযোগপত্রে ২০ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলপ্রয়োগে উৎসাহ দেওয়া; তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা, কারফিউ এবং সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসনকে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় কর্মীদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা, টেলিফোনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করেছে, আন্দোলন চলাকালে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা, কারফিউ সমর্থন, আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর মতো কর্মকাণ্ডেও ইনু সম্পৃক্ত ছিলেন।

সবশেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়া ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ও নির্দেশনার মাধ্যমে ইনুর সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মামলার রায় ঘোষণা করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

আপডেট সময় ০২:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল দুপুর দেড়টার পর এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত হাসানুল হক ইনু।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, আব্দুস সাত্তার তরাফদার, মীজানুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন আহসান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এছাড়া বহু আন্দোলনকারী আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইনুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, উসকানি, প্ররোচনা ও দমন-পীড়নে সহযোগিতাসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। অভিযোগপত্রে ২০ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলপ্রয়োগে উৎসাহ দেওয়া; তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা, কারফিউ এবং সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসনকে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় কর্মীদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা, টেলিফোনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করেছে, আন্দোলন চলাকালে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা, কারফিউ সমর্থন, আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর মতো কর্মকাণ্ডেও ইনু সম্পৃক্ত ছিলেন।

সবশেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়া ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ও নির্দেশনার মাধ্যমে ইনুর সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মামলার রায় ঘোষণা করবে।