ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী

নিজস্ব সংবাদ :

মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। তিনি ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার বাশবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, আধুনিক গান ও দেশাত্মবোধক সংগীতে অসাধারণ অবদান রেখে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৭০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন এবং দ্রুতই তাঁর সুরের জাদুতে শ্রোতাদের মন জয় করেন। তাঁর সুর করা অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— “একবার যদি কেউ ভালোবাসতো,” “যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়,” “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ,” “সব সখীরে পার করিতে,” এবং “আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে”। তাঁর সুরে গাওয়া গানগুলো আজও বাংলা গানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর সুরে গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, কুমার বিশ্বজিৎ, এন্ড্রু কিশোরসহ অসংখ্য শিল্পী। তাঁর সুরের বৈশিষ্ট্য ছিল মাধুর্য, আবেগ এবং শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করার অসাধারণ ক্ষমতা।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলাউদ্দিন আলী একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সৃষ্টি করা অনেক গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়।

২০১৯ সালের ৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টি, সুর এবং সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি আজও অমর। মুন্সীগঞ্জের এই কৃতী সন্তান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ডসংখ্যকবার এই সম্মাননা অর্জন করেন। যেসব চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা সঙ্গীত পরিচালক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন:গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮)

সুন্দরী (১৯৭৯)

কসাই (১৯৮০)

যোগাযোগ (১৯৮৮)

লাখে একটা (১৯৯০)

প্রেমী ও প্রেমী [1, 2]

এছাড়া, ‘প্রেমিক’ (১৯৮৫) চলচ্চিত্রে সেরা গীতিকার এবং ‘লাল দরিয়া’ (২০০২) চলচ্চিত্রে সেরা সুরকার হিসেবেও তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগে, ২০২০ সালের ৯ আগস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে এই গুণী শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী

আপডেট সময় ০১:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। তিনি ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি উপজেলার বাশবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, আধুনিক গান ও দেশাত্মবোধক সংগীতে অসাধারণ অবদান রেখে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৭০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন এবং দ্রুতই তাঁর সুরের জাদুতে শ্রোতাদের মন জয় করেন। তাঁর সুর করা অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— “একবার যদি কেউ ভালোবাসতো,” “যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়,” “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ,” “সব সখীরে পার করিতে,” এবং “আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে”। তাঁর সুরে গাওয়া গানগুলো আজও বাংলা গানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর সুরে গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, কুমার বিশ্বজিৎ, এন্ড্রু কিশোরসহ অসংখ্য শিল্পী। তাঁর সুরের বৈশিষ্ট্য ছিল মাধুর্য, আবেগ এবং শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করার অসাধারণ ক্ষমতা।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলাউদ্দিন আলী একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সৃষ্টি করা অনেক গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান জনপ্রিয়।

২০১৯ সালের ৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টি, সুর এবং সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি আজও অমর। মুন্সীগঞ্জের এই কৃতী সন্তান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ডসংখ্যকবার এই সম্মাননা অর্জন করেন। যেসব চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা সঙ্গীত পরিচালক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন:গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮)

সুন্দরী (১৯৭৯)

কসাই (১৯৮০)

যোগাযোগ (১৯৮৮)

লাখে একটা (১৯৯০)

প্রেমী ও প্রেমী [1, 2]

এছাড়া, ‘প্রেমিক’ (১৯৮৫) চলচ্চিত্রে সেরা গীতিকার এবং ‘লাল দরিয়া’ (২০০২) চলচ্চিত্রে সেরা সুরকার হিসেবেও তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগে, ২০২০ সালের ৯ আগস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে এই গুণী শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।