স্পেন-ফ্রান্স মহারণে বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণ?
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই রাত ১টায় ডালাসে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, এই লড়াইয়ের বিজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।
এই ম্যাচকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি ম্যাচ, যাকে অনায়াসেই “ফাইনালের আগের ফাইনাল” বলা যায়।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, আর তিন নম্বরে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দলই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অবশ্য স্পেনকে কিছুটা মানসিক সুবিধা দিচ্ছে। শেষ দুইবারের দেখায় ফ্রান্সকে হারিয়েছে লা রোজারা। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জয় এবং পরে উয়েফা নেশনস লিগের রুদ্ধশ্বাস ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে স্পেন প্রমাণ করেছে, বড় ম্যাচে ফ্রান্সকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, ফ্রান্স নিঃসন্দেহে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে জয় সম্ভব বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
অন্যদিকে, ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে শিরোপার লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে যেতে রাজি নন। তাঁর মতে, ট্রফি হাতে ওঠার আগ পর্যন্ত কোনো দলই নিজেদের অজেয় ভাবার সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি ম্যাচেই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।
রেকর্ডের দিক থেকেও ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। স্পেন টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির ৩৭ ম্যাচের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শের খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
পরিসংখ্যান বলছে, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। বিপরীতে, ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল বিধ্বংসী—ছয় ম্যাচে করেছে ১৬ গোল।
অভেদ্য রক্ষণ আর দুরন্ত আক্রমণের এই দ্বৈরথে কে শেষ হাসি হাসবে, সেটাই এখন কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষার বিষয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ডালাসের এই সেমিফাইনাল বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচগুলোর একটি হওয়ার সব উপাদানই বহন করছে।


























