সময়ের আগে আয়কর রিটার্নে মিলবে করছাড়, দেরি হলে গুনতে হবে বাড়তি টাকা
করদাতাদের সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিতে নতুন প্রণোদনা ও জরিমানার কাঠামো চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা করছাড় পাবেন, আর দেরিতে জমা দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এনবিআরের নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন সারা বছরই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে কোন সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে করদাতা করছাড় পাবেন নাকি অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করবেন।
আগে রিটার্ন দিলে কত ছাড়?
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পাবেন। দুটি অঙ্কের মধ্যে যেটি কম হবে, সেটিই প্রযোজ্য হবে।
উদাহরণ হিসেবে—
- করের পরিমাণ ১ লাখ টাকা হলে ছাড় হবে ৫ হাজার টাকা; পরিশোধ করতে হবে ৯৫ হাজার টাকা।
- করের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা হলে ছাড় পাওয়া যাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর: স্বাভাবিক পরিশোধ
এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো করছাড় বা জরিমানা থাকবে না। করদাতাকে নির্ধারিত করের পুরো অঙ্ক পরিশোধ করতে হবে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ: শুরু হবে অতিরিক্ত অর্থ
বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে এই অতিরিক্ত অর্থের সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, কর যদি ১ লাখ টাকা হয়, তাহলে এই সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে মোট দিতে হবে ১ লাখ ২ হাজার টাকা।
এপ্রিল থেকে জুন: বাড়বে জরিমানা
সবশেষ প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত অর্থের সীমা ৫ হাজার টাকা।
ফলে ১ লাখ টাকা করযোগ্য কোনো করদাতাকে এই সময়ে রিটার্ন জমা দিলে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এক নজরে নতুন সময়ভিত্তিক নিয়ম
| সময় | সুবিধা / অতিরিক্ত অর্থ |
| জুলাই–সেপ্টেম্বর | ৫% করছাড় (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা) |
| অক্টোবর–ডিসেম্বর | কোনো ছাড় বা জরিমানা নেই |
| জানুয়ারি–মার্চ | ২% বা ৩,০০০ টাকা অতিরিক্ত (সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা) |
| এপ্রিল–জুন | ৫% বা ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত (সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা) |
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ
করদাতারা এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করে আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে সহজেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
কর পরিশোধ করা যাবে—
- ব্যাংক ট্রান্সফার,
- ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড,
- বিকাশ,
- রকেট,
- নগদসহ অন্যান্য মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে।
রিটার্ন সফলভাবে জমা হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ ডাউনলোড করা যাবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সোয়া এক কোটির বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন এবং গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন।
নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে করদাতারা আগেভাগে রিটার্ন জমা দিতে আরও উৎসাহী হবেন এবং আয়কর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

























