ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাখালী বাস টার্মিনাল কি সত্যিই সরছে? সরকারের নতুন পরিকল্পনায় বদল, যা জানা গেল

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে মহাখালীসহ ঢাকার চারটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা আবারও আলোচনায় এসেছে। শুরুতে দ্রুত স্থানান্তরের কথা বলা হলেও এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত টার্মিনাল সরানো হচ্ছে না। বরং প্রথম ধাপে শহরের বাইরে আধুনিক বাস ডিপো গড়ে তুলে সেখানে বাস রাখা হবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—মহাখালী বাস টার্মিনাল কি এখনই সরছে, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই থাকছে?

যানজট কমাতে নতুন কৌশল

সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে রাজধানীর চারটি বড় আন্তজেলা বাস টার্মিনালকে ধাপে ধাপে শহরের প্রান্তে স্থানান্তর করা। প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • মহাখালী টার্মিনাল উত্তরা-পূর্বাচল এলাকার দিকে,
  • গাবতলী হেমায়েতপুরে,
  • সায়েদাবাদ-কাঁচপুরে,
  • ফুলবাড়িয়া-কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আপাতত নতুন এলাকাগুলোকে বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

পূর্বাচলে শুরু হলো বাস ডিপো

মহাখালী বাস টার্মিনালের অতিরিক্ত চাপ কমাতে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে রাজউকের প্রায় ১০ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস ডিপো চালু করা হয়েছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মহাখালী টার্মিনালে যেখানে প্রায় ৪০০টি বাস রাখার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার বাসের চলাচল হয়। ফলে এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। নতুন ডিপো চালুর মাধ্যমে গ্যারেজে থাকা বাসগুলো শহরের বাইরে রাখা হবে, যাতে রাজধানীর ভেতরে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমে।

টিকিট কাউন্টারেও আসছে পরিবর্তন

সরকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাস কোম্পানির টিকিট কাউন্টার নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগও নিয়েছে। কারণ, যত্রতত্র কাউন্টার স্থাপন এবং সেখান থেকে যাত্রী ওঠানামার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সড়কে বাসের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কমবে এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত?

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তজেলা বাসগুলো শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত প্রবেশ করায় রাজধানীর সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এছাড়া টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘ সময় বাস পার্কিং, অবৈধ দখল এবং বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের বাইরে ডিপো ও আধুনিক টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এখন কী হবে?

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান বাস টার্মিনালগুলো আপাতত যাত্রী ওঠানামার স্থান হিসেবেই থাকবে। তবে এগুলো আর ধীরে ধীরে ডিপো বা ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

নতুন ডিপো থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস এসে যাত্রী নিয়ে আবার শহরের বাইরে ফিরে যাবে। এতে রাজধানীর সড়কে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জ

যদিও পরিকল্পনাটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বাস্তবায়নে রয়েছে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন টার্মিনালের জন্য জমি প্রস্তুত, উন্নত সংযোগ সড়ক, পর্যাপ্ত গণপরিবহন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, শুধু বাস টার্মিনাল সরিয়ে দিলেই রাজধানীর যানজট কমবে না। তাদের মতে, বাস রুটের সমন্বয়, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

শেষ কথা

বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাখালী বাস টার্মিনাল তাৎক্ষণিকভাবে সরছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে শহরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বহাল রয়েছে। এর আগে নতুন ডিপো, অবকাঠামো ও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে গড়ে তোলা যায়, সেটিই হবে এই পরিকল্পনার সফলতার মূল চাবিকাঠি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহাখালী বাস টার্মিনাল কি সত্যিই সরছে? সরকারের নতুন পরিকল্পনায় বদল, যা জানা গেল

আপডেট সময় ০৩:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে মহাখালীসহ ঢাকার চারটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা আবারও আলোচনায় এসেছে। শুরুতে দ্রুত স্থানান্তরের কথা বলা হলেও এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত টার্মিনাল সরানো হচ্ছে না। বরং প্রথম ধাপে শহরের বাইরে আধুনিক বাস ডিপো গড়ে তুলে সেখানে বাস রাখা হবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—মহাখালী বাস টার্মিনাল কি এখনই সরছে, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই থাকছে?

যানজট কমাতে নতুন কৌশল

সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে রাজধানীর চারটি বড় আন্তজেলা বাস টার্মিনালকে ধাপে ধাপে শহরের প্রান্তে স্থানান্তর করা। প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • মহাখালী টার্মিনাল উত্তরা-পূর্বাচল এলাকার দিকে,
  • গাবতলী হেমায়েতপুরে,
  • সায়েদাবাদ-কাঁচপুরে,
  • ফুলবাড়িয়া-কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আপাতত নতুন এলাকাগুলোকে বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

পূর্বাচলে শুরু হলো বাস ডিপো

মহাখালী বাস টার্মিনালের অতিরিক্ত চাপ কমাতে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে রাজউকের প্রায় ১০ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস ডিপো চালু করা হয়েছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মহাখালী টার্মিনালে যেখানে প্রায় ৪০০টি বাস রাখার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার বাসের চলাচল হয়। ফলে এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। নতুন ডিপো চালুর মাধ্যমে গ্যারেজে থাকা বাসগুলো শহরের বাইরে রাখা হবে, যাতে রাজধানীর ভেতরে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমে।

টিকিট কাউন্টারেও আসছে পরিবর্তন

সরকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাস কোম্পানির টিকিট কাউন্টার নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগও নিয়েছে। কারণ, যত্রতত্র কাউন্টার স্থাপন এবং সেখান থেকে যাত্রী ওঠানামার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সড়কে বাসের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কমবে এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য আরও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত?

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তজেলা বাসগুলো শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত প্রবেশ করায় রাজধানীর সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এছাড়া টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘ সময় বাস পার্কিং, অবৈধ দখল এবং বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের বাইরে ডিপো ও আধুনিক টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এখন কী হবে?

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান বাস টার্মিনালগুলো আপাতত যাত্রী ওঠানামার স্থান হিসেবেই থাকবে। তবে এগুলো আর ধীরে ধীরে ডিপো বা ওয়ার্কশপ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

নতুন ডিপো থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস এসে যাত্রী নিয়ে আবার শহরের বাইরে ফিরে যাবে। এতে রাজধানীর সড়কে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জ

যদিও পরিকল্পনাটি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বাস্তবায়নে রয়েছে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন টার্মিনালের জন্য জমি প্রস্তুত, উন্নত সংযোগ সড়ক, পর্যাপ্ত গণপরিবহন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, শুধু বাস টার্মিনাল সরিয়ে দিলেই রাজধানীর যানজট কমবে না। তাদের মতে, বাস রুটের সমন্বয়, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

শেষ কথা

বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাখালী বাস টার্মিনাল তাৎক্ষণিকভাবে সরছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে শহরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বহাল রয়েছে। এর আগে নতুন ডিপো, অবকাঠামো ও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে গড়ে তোলা যায়, সেটিই হবে এই পরিকল্পনার সফলতার মূল চাবিকাঠি।