ভালো লাগুক বা না লাগুক, সেরা দল আর্জেন্টিনা’— সমালোচকদের ফলাফল দিয়েই জবাব মেসির
বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনার সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও চলছে তুমুল বিতর্ক। রেফারিং, ভিএআরের ব্যবহার এবং ফিফার কথিত পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষের কোচ, সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, লিওনেল মেসির কাছে এসবের সবচেয়ে বড় জবাব একটাই— ফলাফল।
আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ভাষ্য, সমালোচনা বা অভিযোগে নয়, টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাই প্রমাণ করে দলটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা শক্তি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেইপ ভার্ড ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মিশরের বিপক্ষে রচনা করেছে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
তবে সেই নাটকীয় জয়ের পরই শুরু হয় বিতর্ক। মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইঙ্গিত দেন, আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিকভাবে পক্ষপাতমূলক রেফারিংয়ের অভিযোগ তোলে। সুইজারল্যান্ডের কোচও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক দাবি।
এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মেসি। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আসছে আর্জেন্টিনা।
মেসির ভাষায়, “কে কী বলছে বা কার ভালো লাগছে, তা নিয়ে আমাদের ভাবার সময় নেই। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। আমাদের অর্জন কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, আর কেউ আমাদের কিছু উপহারও দেয়নি।”
সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে আর্জেন্টিনা শিবিরও একই অবস্থান নিয়েছে। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এর আগে সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় না কাটানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক না থাকলেও মেসি মনে করেন, ফল ভিন্ন হলে সমালোচনার মাত্রাও অন্যরকম হতো।
তার কথায়, “টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা খুব কম দলের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। যদি ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে অনেকেই নানা কথা বলার সুযোগ পেত। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই আমরা সেই সুযোগ তাদের দিইনি।”
বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে আর্জেন্টিনা এখন আরেকটি শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বাইরে চলা বিতর্কেও তাই মেসিদের বার্তা স্পষ্ট— অভিযোগের জবাব কথায় নয়, সাফল্যেই দেওয়া যায়।
























